মঙ্গলবার ঢাকায় বসছে ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা

১০ জুন, ২০২৪ ১২:২৭  

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার (১১ জুন) শুরু হবে ৪৫ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও মেলা।  তিন ক্যাটাগরিতে দুই দিনের এই আয়োজনে ৮ম জাতীয বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করবেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত নির্বাচিত শিক্ষার্থী। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দর্শনার্থী মিলে মেলাটি অর্ধলক্ষ বিজ্ঞানপ্রেমীর মিলন মেলায় পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা। মেলায় এবার সারা দেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন ৭০০ জন প্রতিযোগী।

সোমবার (১০ জুন) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের দ্বিতীয় তলার ডাহুকী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনা স্পৃহাকে আরো বাড়িয়ে দিতে এবারের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য আর্থিক পুরস্কারসহ বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ থাকছে। 

জাদুঘর মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে 'বিজ্ঞান মনস্ক জাতি গঠনে মিডিয়ার ভূমিকা' নিয়ে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক প্রথম আলো'র প্রদায়ক তরিকুর রহমান খান। বক্তব্যে তিনি বিজ্ঞানের সঙ্গে প্রযুুক্তির সমান্তরাল সম্পর্ক এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে তা সবার কাছে ছড়িয়ে দেয়ার ওপর গণমাধ্যমকর্মীদের আগ্রহ ও নিষ্ঠার কথা তুলে ধরেন। তবে বাজার চাহিদা ও পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় বাংলাদেশে এই কাজটি বেশ বন্ধুর বলে উল্লেখ করেনি তিনি। 

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এক বার দেখা ১০ বার পড়ার সমান। তাই বিজ্ঞান জাদুঘর আগারগাঁও ছাড়াও মোবাইল বিজ্ঞান জাদুঘরের মাধ্যমে আঞ্চলিক বাধা দূর করতে চেষ্টা করছে। সহসাই খুলনা বিভাগে আঞ্চলিক অফিস করে এর ব্যাপ্তি বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তিনি আরো বলেন, বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করতে যেসব স্কুলে বিজ্ঞানাগার সমৃদ্ধ নয় এবং যাদের ক্যাপাসিটি কম তারা এখান থেকে উপকৃত হচ্ছেন। আর তরুণ সমাজকে বিজ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে ও তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে বিকশিত করার জন্য প্রতিবছর এই মেলাটা বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

এই আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের কিউরেটর সুকল্যাণ বাছাড় ও পরিচালক মো: ওয়াহিদুল ইসলাম এবং ডিজিবাংলাটেক.নিউজ নির্বাহী সম্পাদক ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের পেশাদার সাংবাদিকদের নিবন্ধিত সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের নির্বাহী সদস্য এস এম ইমদাদুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে কিউরেটর সুকল্যাণ বাছাড় জানান, প্রত্যেক জেলা থেকে বিজয়ী  প্রকল্প, অলিম্পিয়াড বিজয়ী ও কুইজ বিজয়ীদের ঢাকায় আসা-যাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা করছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর। জাদুঘর মিলনায়তনের এবারের মেলায় ১৯২টি স্টলে উপস্থাপিত উদ্ভাবন থেকে সেরা উদ্ভাবন পুরস্কৃত করা হবে। প্রকল্প থেকে ৩টি গ্রুপে ৮ জন করে অংশ নিচ্ছে। একইভাবে অলিম্পিয়াডে ২টি গ্রুপ থেকে ৫জন করে এবং কুইজে ৩টি দল অংশ নেবে। পুরস্কার হিসেবে জাদুঘরের আকর্ষণীয় সৌজন্য উপহার, প্রাইজ বন্ড ছাড়াও ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, কোরিয়া, ইতালির মতো দেশে সরকারি সফরের সুযোগ পাবেন বিজয়ীরা।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর পরিচালক মো: ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, কর্মমুখী প্রজন্ম গড়ে তুলতে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার আবশ্যক। এটি ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। কেননা উন্নয়নের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় না নিলে অনেক উন্নয়নই আখেরে পরিবশের জন্য বিপর্যয় এমনটি মানব সভ্যতাপর জন্যও হুমকী হতে পারে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে গণমাধ্যম কর্মী ইমদাদুল হক বলেন, বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠন ছাড়া জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বা স্মার্ট সমাজ গঠন সম্ভব হবে না। আর এজন্য গণমাধ্যমগুলোকে এর সঙ্গে গণমানুষের কাছে বিষয়টিকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে নানা মাত্রিক ফরম্যাটে তুলে ধরা দরকার। নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যতের সঙ্গে মিতালি করে দিতে এই জাদুঘরের আয়োজন ‍ও উদ্যোগের ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে প্রসারে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বেই কাজটি করতে হবে।